শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন
ভুয়া ছবি, গোপন নেটওয়ার্ক—ব্রিটেনে ইরানের ছায়াযুদ্ধ ফাঁস!
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের ভেতরেই নীরবে একটি ‘ছায়া যুদ্ধ’ চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এই গোপন যুদ্ধ শুধু নিষেধাজ্ঞা ভাঙার কৌশলে সীমাবদ্ধ নয়—এর লক্ষ্য আরও গভীরে। প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে ব্রিটিশ জনগণের মনোজগতে প্রভাব বিস্তার এবং সামাজিক বিভাজন সৃষ্টি করাই যেন মূল লক্ষ্য—এমনটাই বলছে প্রভাবশালী ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।
সোমবার প্রকাশিত বিস্ফোরক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যের ট্রেজারি ৯টি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের তদন্ত করছে। তবে এই লঙ্ঘন কেবলমাত্র ইরানের বৃহত্তর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অভিযান পরিকল্পনার এক ক্ষুদ্র অংশ মাত্র।
দ্য টেলিগ্রাফ দাবি করেছে, ইরান দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলোকে ভেতর থেকে দুর্বল করতে এক সুদূরপ্রসারী কৌশল বাস্তবায়ন করছে। তাদের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রঘনিষ্ঠ দেশগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিষিদ্ধ হওয়ার পরও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এখনো অনলাইনে প্রভাবশালী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া ইসলামিক হিউম্যান রাইটস কমিশন (আইএইচআরসি)-এর মতো লন্ডনভিত্তিক কিছু সংগঠন ‘কুদস ডে’ আয়োজন করে, যারা আগে হিজবুল্লাহর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। পরে যুক্তরাজ্য হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করে।
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের রাষ্ট্রীয় দুটি ব্যাংক—মেলি ব্যাংক ও ব্যাংক সাদেরাত—এখনো লন্ডনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়নের সম্পর্ক রয়েছে।
দ্য টাইমস ও স্কটিশ ডেইলি এক্সপ্রেস অনুসারে, ওপেন এআই সম্প্রতি স্টর্ম-২০৩৫ নামে একটি সন্দেহভাজন নেটওয়ার্ক শনাক্ত করেছে, যেটি ইরান-সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা হয়। পার্সিয়ান ভাষার ইনপুটে ইংরেজি ও স্প্যানিশে বিভেদমূলক পোস্ট ছড়ানো ছিল যার কাজ।
এই পোস্টগুলো ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে করা হতো—যেগুলো নিজেদের ‘স্থানীয় ব্রিটিশ নাগরিক’ হিসেবে পরিচয় দিত, কিন্তু আসলে এগুলো স্টক ছবি ও কৃত্রিম পরিচয়ে পরিচালিত হতো।
গবেষণা বলছে, এসব পোস্টের মূল লক্ষ্য ছিল স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা, ব্যয় সংকোচন ও বিদেশনীতি ইস্যুতে জনমতকে বিভক্ত করা।
গত ১২ জুন ইসরায়েলি হামলার পর এসব অ্যাকাউন্ট আচমকা নিশ্চুপ হয়ে যায়, যা ইঙ্গিত দেয়—এসবের পেছনে থাকতে পারে ইরানের আইআরজিসি (ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী)।
দ্য টেলিগ্রাফের বিশ্লেষণে বলা হয়, যুক্তরাজ্য সরকার এখনো পর্যন্ত ইরানের এই ছায়াযুদ্ধ রুখতে কার্যকর কোনো কৌশল গ্রহণ করতে পারেনি। বরং বছরের পর বছর ধরে নীতিনির্ধারকদের অবহেলার সুযোগেই ইরান তার প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে।